হান কাং এর হিউম্যান অ্যাক্টস- বাংলা তরজমা - ১১
- 07 May, 2026
- লেখক: রৌহিন
না, সেদিন সে শুধুই নিজে বেঁচে থাকার চেষ্টাতেই ব্যস্ত হয়ে থাকেনি।
সেদিন বাড়ি ফিরে জামাকাপড় বদলে পরিস্কার হবার পর তার মায়ের অজ্ঞাতে চুপিচুপি আবার পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেছিল সে। যখন মিউনিসিপাল জিমে গিয়ে পৌঁছাল, তখন রাত নামতে শুরু করেছে। সদর দরজাটা বন্ধ, আশেপাশে কাউকেই দেখা যাচ্ছিল না – অগত্যা সে গেল পাশের আঞ্চলিক অফিসে। অভিযোগ বিভাগেও কাউকে দেখা গেল না। না, ভুল হল, কয়েকটা পচতে শুরু করা মৃতদেহ ছিল বটে, তাদের দেহগুলো থেকে বেরোনো দুর্গন্ধে দম নেওয়া যাচ্ছিল না। কিছুক্ষণ আগে ও আর সিওন-জু এই দেহগুলোকে যেমন রেখে গেছিল, ঠিক সেভাবেই পড়ে আছে ওগুলো – নাগরিক যোদ্ধাদলের লোকেরা হয়তো এই দেহগুলোকে আর জিম অবধি নিয়ে যাবার সময় পায়নি, তাই এরা এখনো এখানেই পড়ে আছে।
বাইরের দেউড়ির উঠোনে অবশেষে মানুষের সাড়া পেল ও। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রীটিকে ও ক্যাফেটেরিয়ায় কাজ করতে দেখেছে, তাই মুখচেনা। সে ওকে জানাল যে মেয়েদের সব দোতলায় যাবার কথা।
দোতলায় উঠে করিডোরের একদম শেষ প্রান্তের ঘরটায় ঢুকতে ঢুকতে মেয়েদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুনতে পেল ইউন-সুক।
“আমাদেরও বন্দুক দিতেই হবে। এই লড়াইএ সকলেরই সামিল হওয়া দরকারী”
“বন্দুক শুধু তাদেরই দেওয়া হবে, যারা সত্যি সত্যিই চায়, সবটা বুঝে। যারা এর শেষ দেখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ”
সিওন-জু কে থুতনির উপর হাত রেখে টেবিলের একদম শেষ মাথায় বসে থাকতে দেখে ও এগিয়ে গিয়ে ওর পাশে বসে পড়ল। ওর দিকে তাকিয়ে একটু হাসল সিওন-জু। ও এমনিতেই খুব কম কথা বলে, কিন্তু তর্ক-বিতর্ক শেষ হবার পরে ও-ই শান্ত কন্ঠে সবাইকে জানাল, যারা বন্দুক চাইছে, ও তাদের পক্ষে।
রাত প্রায় এগারোটা নাগাদ জিন-সু দরজায় ধাক্কা দিল। ওরা কেউই এর আগে ওকে হাতে বন্দুক নিয়ে দেখেনি, ওর সর্বক্ষণের সঙ্গী ওয়ারলেস রেডিওটার সাথে এই বন্দুকটা কেমন বেমানান লাগছিল।
“তোমাদের মধ্যে তিনজন কি সকাল অবধি থেকে যেতে পারবে?” সে জানতে চায়। “আমরা রাস্তায় কিছু প্রচারের কাজ করব রাতে, সেজন্য জনা তিনেক এখানে থাকলেই যথেষ্ট। বাকিরা যে যার বাড়ি চলে যেতে পারো।“
যে তিনজন এগিয়ে এল, তারা প্রত্যেকেই মেয়েদের হাতে বন্দুক দেবার পক্ষে সওয়াল করছিল এতক্ষণ।
তারপরে ক্যাফেটেরিয়ায় কাজ করা সেই অল্পবয়সী মেয়েটি, যে ইউন-সুককে পথ দেখিয়েছিল, বলে উঠল, “আমরাও এখানেই থাকতে চাই। আমরা সবাই মিলে এর শেষ দেখতে চাই – সেজন্যই আমরা সবাই এখানে এসেছি – একসাথে থাকব বলে।“
পরে যখন সেই দিনটার কথা ভাবতে বসে, ইউন-সুক কিছুতেই মনে করতে পারে না কিভাবে জিন-সু শেষ পর্যন্ত ওদের চলে যেতে রাজি করিয়েছিল। সম্ভবতঃ ও মনে করতে চায়ও না। আবছা মনে পড়ে, জিন-সু বলেছিল নাগরিক যোদ্ধাদলের কতটা বদনাম হবে যদি তারা মেয়েদেরকেও এভাবে ছেলেদের সঙ্গে প্রভিনশিয়াল অফিসে মরার জন্য ছেড়ে রেখে যায়। সেই যুক্তি ওকে আদৌ প্রভাবিত করেছিল কি না, সেটাও ওর ঠিক স্পষ্ট মনে পড়ে না। ও ভেবেছিল এতদিনে মৃত্যুর সঙ্গে ওর একটা সমঝোতা হয়ে গেছে, এত রকমের মৃত্যু ওরা দেখে ফেলেছে, নিজেরা সেইসব মৃতদেহ সামলেছে, যে সেখানে নতুন করে ভয় পাবার আর কিছু নেই। কিন্তু কার্যতঃ ওর ভয় বেড়েই চলেছিল। ওর শেষ নিঃশ্বাস ওরকম একটা আর্তনাদ হোক, ও চায়নি। চায়নি ওর শরীরটা ওইভাবে পড়ে থাকুক, ছিন্নভিন্ন, পেট থেকে নাড়িভুড়ি বেরিয়ে আসুক, রক্তে রসে মাখামাখি হয়ে থাকুক।
যে তিনজন মেয়ে থেকে যাবার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, সিওন-জু তাদের মধ্যে একজন। আত্মরক্ষার জন্য একটা কার্বাইন রাইফেল পেল ও, কিভাবে সেটা ব্যবহার করা যাবে তা সংক্ষেপে বুঝে নিল কোনোমতে, তারপরে এলোমেলোভাবে সেটাকে কাঁধের মধ্যে ঝুলিয়ে নিল। কাউকে কোনোরকম বিদায় সম্ভাষণ না করেই বাকি দুজন ছাত্রীর সঙ্গে ও ও নীচে নেমে গেল গটগট করে। জিন-সু ওদের উদ্দেশে চেঁচাল – “যতজনকে পারো বাড়ি থেকে বের করে আনো। সূর্যোদয়ের সময়ে এই আঞ্চলিক অফিসটার সামনে সমস্ত আন্দোলনকারীরা যেন সমবেত হয়ে যায়। রাতটা আমরা কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখতে পারব, কিন্তু সকাল হলেই আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হবে।“
রাত প্রায় একটা নাগাদ বাকি মেয়েরা আঞ্চলিক অফিস ছেড়ে বেরোল। জিন-সু আর আরেকটি ছাত্র ওদের নাম-ডং ক্যাথিড্রাল গির্জার সামনের গলিটা দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেল। গলির মুখে যেখানটায় রাস্তার আলো সেভাবে পড়ছে না, সেখানে এসে দাঁড়িয়ে গেল সে।
“এবার সবাই ছড়িয়ে যাও। প্রত্যেকে লুকানোর জন্য একটা কোনো বাড়ি খুঁজে নাও। যে কোনো বাড়ি।“
আত্মা বলে কোনো কিছু যদি থেকে থাকত ইউন-সুক এর, তবে সেটাই ছিল তা ভেঙে চুরচুর হয়ে যাবার মুহুর্ত। যখন রাইফেলের স্ট্র্যাপটা নিজের ঘামে ভেজা জামাটায় চেপে ধরে ওদের সকলের দিকে একটা বিদায়ের হাসি হাসল জিন-সু। কিন্তু তাই বা কেন, সেটা তো অনেক আগেই টুকরো হয়ে গেছিল, যখন সে ওই আঞ্চলিক অফিসটা থেকে বেরিয়ে এসে তোমার ছোটখাটো প্রায় বালকসুলভ চেহারাটা দেখে মাঝপথেই থমকে গেছিল। সে তোমার হালকা নীল ট্র্যাকস্যুটের প্যান্ট, পি ই সোয়েটার পার করে তোমার হাতের বন্দুকটার দিকে দেখছিল। “ডং-হো”, চেঁচিয়ে উঠেছিল ও, “বাড়ি যাসনি কেন?” যে ছেলেটা বাকিদের বন্দুক চালানোর খুঁটিনাটি শেখাচ্ছিল, তার দিকে গটগট করে এগিয়ে এলো ও। “এই ছোঁড়াটা মিডল স্কুলে পড়ে। ওকে বাড়ি পাঠিয়ে দাওনি কেন?” তার ঝাঁঝালো কথায় অল্পবয়সী ছেলেটি একটু অবাকই হয়। “ও তো বলল ও হাই স্কুলের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে; ওর কথা অবিশ্বাস করার তো কোনো কারণ দেখিনি – আমরা তো এমনকি ফার্স্ট ইয়ারের ছেলেদেরও একটু আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম – কিন্তু ও তো কিছুই বলল না।“ এবারে গলা নামিয়ে ইউন-সুক ওকে বলে, “যত্ত আজেবাজে কথা। ওর মুখ দেখে তোমার মনে হচ্ছে ও হাই-স্কুলে পড়ে?”
জিন-সু আর অন্য ছেলেটা গলির মোড়ে মিলিয়ে যাওয়া অবধি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল মেয়েদের দলটা, তারপরে তারা ছড়িয়ে পড়ল যে যার মত। “এখানে আশেপাশে থাকে এরকম কাউকে চেনো?” ক্যাফেটেরিয়ায় কজা করা ছাত্রীটি ইউন-সুকের কাছে জানতে চায়। সে মাথা নাড়ে। “তাহলে আমার সাথে চলো। এখানে জিওনাম হাসপাতালে আমার মাসতুতো ভাই ভর্তি আছে।“
হাসপাতালের লবির সব আলো নেভানো, ঢোকার দরজায় তালা দেওয়া। বেশ কিছুক্ষণ দুজনে মিলে দরজায় ধাক্কা দেবার পর একজন রক্ষী তাদের মুখে টর্চের আলো ফেলতে ফেলতে বেরিয়ে এলো, তার পিছনে হেড নার্স। দুজনের মুখেচোখেই উৎকণ্ঠার চিহ্ন – ওরা দুজনেই ধরে নিয়েছিল যে সৈন্যরাই আবার ফিরে এসেছে।
করিডোর, এমার্জেন্সির সিঁড়ি, সব জায়গাই লবিটার মতই অন্ধকার। শুধু রক্ষীর টর্চের আলোয় পথ দেখে দেখে ওরা মেয়েটির ভাই যেখানে ভর্তি আছে, সেই ওয়ার্ডের দিকে এগিয়ে গেল। এখানে অন্ধকার আরও বেশী ঘন; জানলাগুলোয় ভারী কাপড়ের টুকরো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারেও ওরা টের পাচ্ছিল যে প্রতিটা নার্স এবং রোগী, সকলেই সতর্ক হয়ে সিঁটিয়ে আছে যেন। অন্য মেয়েটি ইউন-সুককে ছেড়ে তার মাসির কাছে এগিয়ে গেল। “ওরা বলছে সেনারা যখন ফিরে আসবে”, ফিসফিসিয়ে বললেন মাসিমা, “তখন ওরা আহতদেরও গুলি করে মারবে। “
জানলাটার নীচে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসে পড়ল ইউন-সুক।
“জানলার কাছে বোসো না – বিপদ হতে পারে” পাশের বিছানার রোগীর কোনো পুরুষ আত্মীয় বলে ওঠেন। অন্ধকারে ভদ্রলোকের মুখটা ঠাহর করতে পারে না ইউন-সুক। “সেনারা যেদিন চলে যাচ্ছিল, সেদিনও প্রচুর গোলাগুলি চলেছে – এই জানলায় ঝোলানো কাপড়গুলো দেখলে দেখতে পাবে এগুলো বুলেটে ছিন্নভিন্ন হয়ে আছে। তখন যদি ওখানে কেউ দাঁড়িয়ে থাকত, তার কী হাল হত ভাবতে পারছ?”
অগত্যা জানলাটার কাছ থেকে সরে আসে ইউন-সুক।
একজন রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল; কুড়ি মিনিট অন্তর একজন নার্স এসে তার অবস্থা দেখে যাচ্ছিলেন। যতবার ওর টর্চের আলোটা ওয়ার্ডের উপর দিয়ে ভেসে আসছিল, ভীত, সন্ত্রস্ত মানুষজনের কঠিন মুখগুলো উদ্ভাসিত হয়ে উঠছিল ক্ষণিকের জন্য। আমরা তাহলে এখন কী করব? সত্যিই কি ওই সৈন্যগুলো আবার হাসপাতালেও আসবে? ওরা বলছে আহতদের গুলি করে মারবে – তাহলে তাদের কি ভোর হবার সাথে সাথেই ছেড়ে দেওয়া উচিৎ নয়? সবে একদিন হয়েছে কি হয়নি তোর ভাইএর জ্ঞান ফিরেছে – যদি ওর সেলাইটা আবার ছিঁড়ে যায়? মেয়েটির মাসি ওদের কানের কাছে বলেই যাচ্ছিলেন এসব, ফিসফিসিয়ে। আর ওঁর সব প্রশ্নের জবাবেই মেয়েটি শান্ত হয়ে একটাই জবাব দিয়ে যাচ্ছিল, “আমি জানিনা মাসি” ।
কতক্ষণ কাটল? কটা বাজে এখন? অনেক দূর থেকে একটা হালকা গলার স্বর শুনতে পেয়ে জানলার কাছে গেল ইউন-সুক। স্বরটা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে; কোনো মেয়ের গলা – মেগাফোনে কিছু বলছে; তবে এটা সিওন-জু র গলা নয়।
“প্রিয় শহরবাসী, আপনারা সবাই আঞ্চলিক অফিসের সামনে চলে আসুন। সেনারা আবার শহরে ঢুকছে।“
ঘরের ভিতরে তখন একটা পিন পড়লে শোনা যাবে, যেন একটা বিরাট বেলুন ফুলতে ফুলতে ঘরটার প্রতিটা কোনায় ছড়িয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালের পাশ দিয়েই একটা ট্রাক চলে গেল ঘড়ঘড় আওয়াজ তুলে, আওয়াজটা এবার আরও স্পষ্ট, বেশ জোরে শোনা যাচ্ছে।
“আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবার পণ নিয়েছি। আপনারাও সকলে বেরিয়ে আসুন, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করি সকলে।“
তারপর আওয়াজটা ক্রমশঃ দূরে সরে যেতে যেতে আস্তে আস্তে মিলিয়ে গেল। ঠিক দশ মিনিট হয়েছে কি হয়নি, ওটার পিছনে ফেলে যাওয়া নৈঃশব্দ আবার খান খান হয়ে গেল, এবার সেনাদের আওয়াজে। এরকম কিছু এর আগে কখনো শোনেনি ইউন-সুক। দৃঢ়, একতালে ছন্দোবদ্ধ হাজার হাজার পায়ের যুদ্ধের বুটের ঠকঠক শব্দ। বড় বড় ট্যাঙ্কগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল ওরা সামনের দেওয়ালগুলোকে যেন কাচের মত ভেঙে ফেলবে, আর ওগুলোর চাকার তলায় ফুটপাথগুলো যখন তখন ভেঙে যাবে। নিজের হাঁটুতে মাথা গুঁজে বসে সে। রোগীদের বিছানা থেকে কেউ একজন বলে ওঠে, জানলাগুলো বন্ধ করে দাও মা। - বন্ধই তো আছে সব। - তাহলে আরও শক্ত করে এঁটে দাও, আরও চেপে আটকাতে পারছ না? তারপর যখন কিছুক্ষণ পরে সৈন্যদের সেই দলটা চলে গেল, সেই রাস্তার ঘোষিকার গলা শোনা গেল আবার। শহরের প্রতিটা কোনায়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে সব নৈঃশব্দকে ছিন্ন করে ছড়িয়ে পড়ল সেই আওয়াজ – এমনকি বেশ কয়েকটা ব্লক দূর থেকেও মৃদু আওয়াজে শোনা যাচ্ছিল সেই ডাক। “গোয়াংজুর নগরবাসী, আমাদের সাথে রাস্তায় নেমে এসো। সেনারা আসছে।“
অবশেষে যখন আঞ্চলিক অফিসের দিক থেকে সেই অমোঘ গোলাগুলির আওয়াজ ভেসে এল, ততক্ষণে ইউন-সুক ঠায় জেগে বসে আছে। ও নিজের কানে হাত চাপা দিতে পারত, চোখগুলো চেপে বন্ধ করে রাখতে পারত, দুপাশে মাথা ঝাঁকাতে পারত, যন্ত্রণায় গোঙাতে পারত। কিন্তু সেসব কিছুই নয়, তার বদলে ওর তোমাকে মনে পড়ল, ডং-হো। ও যখন তোমাকে বাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করছিল, তখন তুমি কেমন সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে উঠে গেছিলে, সেকথা মনে পড়ল ওর। তোমার মুখ ভয়ে সাদা হয়ে গেছিল, যেন সেই জরুরী কথাটা না শুনে পালাতে পারার উপরেই তোমার জীবন-মরণ নির্ভর করছে। ডং-হো, চল, আমরা একসাথেই যাই। আমাদের এখনই চলে যেতে হবে। তিনতলার রেলিং এ ভর দিয়ে হাঁপাচ্ছিলে তুমি। যখন ইউন-সুকের চোখ তোমার চোখে এসে পড়ল, ও দেখতে পেয়েছিল যে তোমার চোখের পাতাগুলো কাঁপছে। কারণ তুমি ভয় পেয়েছিলে। তুমি চেয়েছিলে বাঁচতে।