শতবর্ষে ODBL : সুনীতিকুমারের মহাগ্রন্থের নির্মাণ ও অবদান বিষয়ক কিছু কথা

সুনীতিকুমারের ODBL প্রথম প্রকাশের পরে যে বিপুল হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল, শুধু বাংলা নয়, গোটা ভারত তথা ভাষাতত্ত্বচর্চার বৈশ্বিক দুনিয়াতেই, সেই খবর আমরা জানি। বিপুল প্রস্তুতি নিয়ে দীর্ঘ অধ্যাবসায়ের পর্ব পেরিয়ে এই বই লিখেছিলেন সুনীতিকুমার। ১৯২৬ এই বই প্রথম প্রকাশিত হলেও বই লেখার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই, সুনীতিকুমারের ছাত্র দশাতেই। সুনীতিকুমার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক স্তরে ইংরাজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশুনো শুরু করেন। সেই সময় স্পেশাল পেপার হিসেবে তিনি বেছে নেন প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইংরাজি ভাষা, তার ইতিহাস এবং প্রাচীন জার্মান ভাষাতত্ত্ব সম্পর্কিত কোর্স। এই সংক্রান্ত পড়াশুনো করতে করতেই বাংলা ভাষার ইতিহাস খুঁড়ে দেখার ইচ্ছে তার মধ্যে তৈরি হয়।

সেই সময়টা ছিল বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সূত্র ধরে আসা নতুন দেশপ্রেম ও ভাষাপ্রেমের দিনকাল। পুরনো বাংলা ভাষা ও সাহিত্যর বিশ্লেষণ এবং হারানো লুকনো পুথির অন্বেষণ তখন চলছে জোরকদমে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লেখার চেষ্টা করছেন দীনেশচন্দ্র সেন, নেপাল থেকে হাজার বছরের পুরনো বাংলা ভাষায় লেখা পুথি খুঁজে আনছেন এশিয়াটিক সোসাইটির হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, স্বাধীন অন্বেষক বসন্তরঞ্জন রায় জহুরীর চোখে পুরনো পুথি খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে যাচ্ছেন চৈতন্যদেবের আগের সময়ে লেখা রাধাকৃষ্ণ প্রেমের এক লৌকিক আখ্যান শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি। যে বছর বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের দুই মহামূল্যবান পুথি প্রকাশিত হয়ে বাংলা ভাষা সাহিত্যের ইতিহাসের দিগন্তকে অনেক দূর অবধি প্রসারিত করে দিচ্ছে, সেই বছরেই, ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি নিয়ে সুনীতিকুমার গবেষণা শুরু করছেন বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক ব্যাকরণ নিয়ে। তখন তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি এবং কম্পারেটিভ ফিলোলজির সহকারী অধ্যাপক। এই গবেষণাকর্মের প্রবেশক সন্দর্ভ হিসেবে সুনীতিকুমার লেখেন ‘দ্য সাউন্ডস অব মর্ডান বেঙ্গলি’। তিন বছরের গবেষণার মধ্যে সুনীতিকুমার আরো কিছু মহামূল্যবান সন্দর্ভ লিখে ফেলেন বাংলা ভাষায় পারসিক উপাদান, বাংলা ক্রিয়াপদ ও ক্রিয়ামূল, বাংলার বিভিন্ন উপভাষা এবং চর্যাপদ ও প্রাচীন বাংলার ধ্বনিবিজ্ঞান নিয়ে। চর্যাপদ সম্পর্কে সুনীতিকুমারই ভাষাতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক পথ পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রথম গবেষণা করেন ও এই বইয়ের ভাষা যে খ্রিস্টিয় দশম – দ্বাদশ শতকের প্রাচীন বাংলা, তা যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৬ থেকে ১৯১৯ সালের মধ্যে লেখা এই সমস্ত গবেষণাকর্মের উপাদান পরবর্তীকালে প্রকাশিত ODBL এর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আমাদের মনে রাখতে হবে ODBL সুনীতিকুমারের যে ডিলিট থিসিসের পরিমার্জিত রূপ, সেই থিসিস রচিত হয়েছিল ভারত সরকারের বিশেষ গবেষণাবৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে সুনীতিকুমার যোগ দেন ১৯১৯ এর সেপ্টেম্বর মাসে। ১৯২১ সালের ২০ জুলাই সুনীতিকুমার আনুষ্ঠানিকভাবে ডি লিট ডিগ্রি পান। এর পরীক্ষাপর্ব ও বিরাটাকার থিসিসটি জমা দেওয়ার আগে দুবার হাতে লেখার সময়কালটি মাথায় রাখলে আমরা বুঝতে পারি এই ডি লিট থিসিস সুনীতিকুমার এক বছরের অল্প বেশি কিছু সময়ের মধ্যেই লিখে ফেলেছিলেন। এ থেকে অনুমান করা কঠিন নয় প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি নিয়ে দেশে থাকাকালীন পর্বে তিন বছর ধরে বাংলা ভাষা নিয়ে তিনি যে গবেষণা করেছিলেন সেটা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে করা তাঁর ডিলিট থিসিসের অন্যতম ভিত্তি ছিল।

কলকাতা ও লন্ডনে সুনীতিকুমারের গবেষণাকর্মের পরীক্ষক, প্রশিক্ষক, পরামর্শদাতা ও সহায়কদের মধ্যে ছিলেন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, জর্জ আব্রাহাম গিয়ার্সন, ডেনিসন রস, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেডি আন্ডারসন, ড লিওনেল ডেভিড বার্নেট, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বনিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড্যানিয়েল জোন্স প্রমুখ। এরা সকলেই তাঁদের দেশকালের বিশিষ্ট ভাষাবিদ বা চিন্তাবিদ। অধ্যাপক জুল ব্লখের মারাঠা ভাষার ইতিহাস সংক্রান্ত পথিকৃৎ গ্রন্থটিকে সুনীতিকুমার যে তাঁর গবেষণা ও সন্দর্ভের মডেল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন তা দুটি বইকে পাশাপাশি রাখলে বুঝতে অসুবিধে হয় না। তবে ODBL এ বাঙালির সাংস্কৃতিক নৃতাত্ত্বিক যে ইতিহাস ভাষা সংক্রান্ত গবেষণার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে তা তাঁর নিজস্ব চিন্তাভাবনার ফসল। এই দিকটি জুল ব্লখের La formation de la langue marathe (The Formation of the Marathi Language) বইতে নেই। গবেষণাপত্রর প্রাথমিক খসড়া সুনীতিকুমার পাঠিয়েছিলেন জুল ব্লখ ও গিয়ার্সনের কাছে। তাঁরা অত্যন্ত খুঁটিয়ে সন্দর্ভটি পড়েন এবং মার্জিনে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত পেশ করেন। এইসব মতামতের ভিত্তিতে সুনীতিকুমার গোটা সন্দর্ভটি পরিমার্জিত আকারে আবার নতুন করে লেখেন।

ভাষাবিদ্যার গবেষণা সংক্রান্ত বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রমথ চৌধুরী সুনীতিকুমারকে প্রভূত প্রেরণা ও পরামর্শ দিয়েছিলেন। সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সতীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণ, গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, সি এফ অ্যান্ড্রুজ, ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, জন উডরফ, ভাষাতাত্ত্বিক আই জে এস তারাপুরওয়ালা, অধ্যাপক প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ বিশিষ্ট মানুষেরা সুনীতিকুমারকে পি এইচ ডি না করে সরাসরি ডি লিট থিসিস জমা দেওয়ার আইনী জটিলতা থেকে মুক্ত করার জন্য সুপারিশপত্র লেখেন। বোঝা যায় সুনীতিকুমারের এই গবেষণাকর্ম নিয়ে কলকাতার সমকালীন সারস্বত সমাজের বিপুল উৎসাহ, সমর্থন ও সহযোগিতা ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আগাগোড়া সুনীতিকুমারের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকর্ম শেষ করার পর স্যর আশুতোষের বিশেষ চেষ্টাতেই সুনীতিকুমারের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরীর সবেতন ছুটি বৃদ্ধি পায় এবং তিনি প্যারিসে আরো গবেষণা করতে যাবার সুযোগ পান। দেশে ফেরার পর ODBL গ্রন্থ প্রকাশের দায়দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্যর আশুতোষের নেতৃত্বাধীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এই গ্রন্থপ্রকাশের জন্য যে বিশেষ ধরনের অনেক হরফের দরকার ছিল, তা তখন এখানে পাওয়া যেত না। ফলে তা নতুন করে তৈরি করে নিতে হয় এবং সেজন্য গ্রন্থটির মুদ্রণকাজে প্রায় তিন বছর সময় লাগে। এই মুদ্রণকাজ চলার সময়েই স্যর আশুতোষ অকস্মাৎ প্রয়াত হন। মুদ্রণের নানা জটিলতা অতিক্রম করে অবশেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের অগস্ট মাসে ODBL দু খণ্ডে প্রকাশিত হয়। বইয়ের ভূমিকা লেখেন আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন। এছাড়াও বইয়ে মুদ্রিত হয় সেকালের শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদদের ODBL সম্পর্কিত মতামত। 

সম্পূর্ণ গ্রন্থটি হাতে পাওয়ার পর স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে লিখেছিলেন, “আপনারা আমার কাছে এই বইটি সম্পর্কে মতামত জানতে চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে প্রথম খণ্ডের শুরুতে সংযোজিত ভূমিকায় আমার যে মতামত প্রকাশ করেছি, তার উল্লেখ করতে পারি। নতুন করে আর কিছু যোগ করার নেই। শুধু এটুকু বলতে চাই, নির্ভুল জ্ঞানের ভিত্তিতে এবং প্রকৃত বিজ্ঞানের নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে রচিত এই গ্রন্থটির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও উচ্চ ধারণা রয়েছে।

আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, এই গ্রন্থটি এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ অলংকার হয়ে প্রকাশিত হয়েছে, যার সঙ্গে বহু বছর ধরে ফেলো (Fellow) হিসেবে যুক্ত থাকার সম্মান আমার হয়েছে।”

প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুল ব্লখ লেখেন, “এই বইটি সম্পর্কে আমার বিস্তারিত মতামত আমি যথাসময়ে কোনও পাণ্ডিত্যপূর্ণ সাময়িকপত্রে প্রকাশ করব। যেমন, প্যারিসের Bulletin de la Société de Linguistique de Paris অথবা Journal Asiatique-এ এ বিষয়ে লিখতে চাই।আপাতত এটুকু বলতে পারি, এই বইটি প্রকাশের জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয় যে উদারতার পরিচয় দিয়েছে, অন্তত এবার তা ব্যর্থ হয়নি। গ্রন্থটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বহুগুণ বাড়াবে এবং ভারতীয় পাণ্ডিত্যচর্চার সম্মানও বৃদ্ধি করবে। কোনও ভারতীয় পণ্ডিতের লেখা কোনও ভারতীয় ভাষা বিষয়ক এত ব্যাপক ও গভীর গবেষণাগ্রন্থ এই প্রথম প্রকাশিত হল। আমি এই ধরনের আরও বই দেখতে চাই। তবে আমার আশঙ্কা, অধ্যাপক চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রতিভা, জ্ঞান ও গবেষণাপদ্ধতির অধিকারী মানুষ এখনও খুব বেশি নেই।”

ব্রিটিশ মিউজিয়াম ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল. ডি. বার্নেট লেখেন, “এই অসাধারণ গ্রন্থটি হাতে পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এখানে যে গবেষণার সূচনা হয়েছিল, এই বইয়ের মাধ্যমে তা এত সুন্দরভাবে সম্পূর্ণতা লাভ করেছে। গ্রন্থটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। বাংলা ভাষার ইতিহাস রচনার মূলনীতিগুলিকে এটি এক দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেছে। একই সঙ্গে ভারতের অন্যান্য ভাষার ইতিহাস নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

নরওয়ের অসলো-র অধ্যাপক স্টেন কোনো লেখেন,“আপনার এই কৃতিত্বের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আপনি সত্যিই প্রথম শ্রেণির একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইউরোপের কোনও পণ্ডিতের পক্ষে এত বিচিত্র এবং আংশিকভাবে অত্যন্ত দুর্লভ ও প্রায় অপ্রাপ্য উৎস থেকে এত বিপুল তথ্য সংগ্রহ করে এমন একটি বই লেখা সম্ভব হত না। বিষয়টির গভীরে প্রবেশ করার আপনার ক্ষমতা সত্যিই প্রশংসনীয়। পাশ্চাত্যের গবেষণাপদ্ধতিগুলিও আপনি যে নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছেন, তা এই গ্রন্থে প্রমাণিত।”

ইন্ডিয়া অফিস লাইব্রেরি ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এফ. ডব্লিউ. টমাস লেখেন,“আপনার এই অসামান্য গ্রন্থের বহুল প্রতীক্ষিত কপিটি অবশেষে আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। আবার অন্যান্য কাজে সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ার আগে আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। বইটি পড়তে শুরু করেছি। তবে এর সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু আত্মস্থ করতে যে বেশ কিছুটা সময় লাগবে, তা স্পষ্ট। এ বিষয়ে পরে আপনাকে আরও বিস্তারিত লিখব। এখন শুধু এই বিশাল কাজটি সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাতে পারি। আপনি অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণাপদ্ধতি এবং অসাধারণ বিষয়জ্ঞান ও বিশেষজ্ঞসুলভ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি নিশ্চিত, সাধারণ ভাষাতত্ত্ব (General Philology) এবং ভারতীয় ভাষাতত্ত্বের (Indian Philology) জগতের যে সব বিশিষ্ট পণ্ডিতের উন্নততর গবেষণালব্ধ মতবাদ আপনি ইউরোপে গিয়ে গভীর নিষ্ঠা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে অধ্যয়ন করেছেন, তাঁরা সকলেই অত্যন্ত আনন্দিত হবেন। কারণ, তাঁদের সেই গবেষণাপদ্ধতিগুলি আপনি স্বাধীনভাবে নিজের মাতৃভাষার উপর প্রয়োগ করে যে বিপুল ফল লাভ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আপনার এই বইয়ে তাঁদের সকলের জন্যই প্রচুর নতুন তথ্য ও উপাদান রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, গ্রন্থটির ব্যাপ্তি এবং আলোচনার জন্য বিবেচনা করতে হয়েছে এমন বিভিন্ন উপাদানের জটিলতা এতটাই বিপুল যে, তা রীতিমতো বিস্ময় জাগায়।”

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক আর. এল. টার্নার লেখেন,“এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। বইটি আমার সর্বোচ্চ প্রত্যাশাও পূরণ করেছে। এটি এক অসাধারণ কৃতিত্ব। ইন্দো-আর্য ভাষাগুলির অধ্যয়নে এর মধ্য দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।”

চেকোশ্লোভাকিয়ার প্রাগের জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম. উইন্টারনিৎস (Prof. M. Winternitz) লেখেন, "গ্রন্থটির প্রায় এক-চতুর্থাংশ জুড়ে থাকা পাণ্ডিত্যপূর্ণ ভূমিকাটি আমি গভীর আগ্রহের সঙ্গে পড়েছি। এই ভূমিকায় লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে শুধু বাংলা ভাষার ইতিহাসই আলোচনা করেননি, প্রাচীনতম কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইন্দো-আর্য ভাষার ইতিহাসও তুলে ধরেছেন। ভাষাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের (Philological-Historical Investigation) ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের গবেষণাপদ্ধতিগুলির সঙ্গে লেখক সম্পূর্ণ পরিচিত। একই সঙ্গে ভাষার বিভিন্ন তথ্য ও উপাদান সম্পর্কে তাঁর এমন গভীর জ্ঞান রয়েছে, যা কোনও ইউরোপীয় পণ্ডিতের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। এই অসামান্য ভারতীয় ভাষাতত্ত্বের (Indian Philology) গ্রন্থটি প্রকাশের জন্য লেখক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়—উভয়কেই আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যাঁ প্রজিলুস্কি  লেখেন, "এই গ্রন্থটি তার লেখক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়—উভয়ের জন্যই অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। তুলনামূলক ব্যাকরণচর্চার (Comparative Grammar) সঙ্গে যাঁরা যুক্ত এবং যাঁরা ভারতবিদ্যা (Indology) নিয়ে গবেষণা করেন, তাঁরা সকলেই এই গ্রন্থ পেয়ে আনন্দিত হবেন। কারণ, এতে ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাষার বিকাশের ইতিহাস অসাধারণ দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।”

পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার ডিন অধ্যাপক এ. সি. উলনার লেখেন,“আমার যতটুকু বিচার করার ক্ষমতা রয়েছে, সেই অনুযায়ী বলতে পারি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে এটি অন্যতম মূল্যবান কাজ। আমার মতে, ড. চট্টোপাধ্যায়ের এই বই শুধু বাংলা ভাষার ইতিহাসেই নয়, সামগ্রিকভাবে ইন্দো-আর্য ভাষাগুলির ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এই ক্ষেত্রে অধ্যাপক ব্লখের মারাঠি ভাষা বিষয়ক গ্রন্থ প্রকাশের পর এটিই প্রথম উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। ড. চট্টোপাধ্যায়ের কাজের আরেকটি বিশেষত্ব হল, তিনি ধ্বনিতত্ত্বের (Phonetics) গভীর অধ্যয়নের ভিত্তিতে একটি ভারতীয় ভাষার ইতিহাসকে সুসংবদ্ধভাবে পরীক্ষা করেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি একেবারে নতুন গবেষণাক্ষেত্রের সন্ধান দিয়েছেন। তাঁর আলোচনা কখনও কখনও বৈদিক যুগ (Vedic Period) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তিনি এমন অনেক বিতর্কিত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেগুলির কয়েকটি বিষয়ে আমি তাঁর সঙ্গে একমত। ......... এই গ্রন্থে এমন প্রচুর উপাদান রয়েছে, যা দিয়ে একাধিক বই লেখা সম্ভব।”

রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জি. তুচ্চি (Prof. G. Tucci) লেখেন,“সব মিলিয়ে বলা যায়, অধ্যাপক চট্টোপাধ্যায়ের এই গ্রন্থ আধুনিক ভারতের ভাষাতত্ত্বচর্চায় প্রথম বৈজ্ঞানিক অবদান। এই গ্রন্থের মাধ্যমে লেখক তাঁর তরুণ স্বদেশবাসীদের সামনে একটি পথ দেখিয়েছেন—যাঁরা এই ধরনের গবেষণায় আগ্রহী, তাঁরা কীভাবে কাজ করবেন, তার একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন।”

সুইজারল্যান্ডের বাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জে. ওয়াকারনাগেল (Prof. J. Wackernagel) লেখেন,“আপনার কাজটি সত্যিই অসাধারণ। বীমস (Beames) এবং ব্লখের (Bloch) গবেষণাকর্মের পাশে এই গ্রন্থের নামও সমান মর্যাদায় উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য। ভারতীয় ভাষাগুলির উপর ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক গবেষণাপদ্ধতি (Historical and Comparative Method) প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয় পণ্ডিতদের মধ্যে আপনি যে এখন অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ হয়ে উঠেছেন, তার জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাই।”

বার্লিনের অধ্যাপক হাইনরিখ ল্যুডার্স (Prof. Heinrich Lüders) লেখেন,“আমার মতে, গত বছরের সমগ্র ভারতবিদ্যা চর্চার (Indian Studies) ক্ষেত্রে প্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। আপনার এই অসাধারণ কাজ ভারতে আর্যভাষার বিকাশের ইতিহাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এক বিরাট অগ্রগতি। এই ধরনের গ্রন্থ রচনার জন্য এমন একজন পণ্ডিতের প্রয়োজন, যিনি তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের (Comparative Philology) গবেষণাপদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভাষাটির সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত। আপনার গ্রন্থের প্রতিটি পৃষ্ঠায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এই দুই যোগ্যতাই আপনার মধ্যে অসাধারণ মাত্রায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আপনার সুস্থ বিচারবোধ ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি। আমার নিজের লিপিতাত্ত্বিক প্রাকৃতগুলির (Epigraphical Prakrits) ব্যাকরণ রচনার কাজে এবং বিশেষত খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের কথ্য মাগধী ভাষার পুনর্গঠনের (Reconstruction of Spoken Magadhi) ক্ষেত্রে আপনার এই গ্রন্থ থেকে আমি যে অনেক সাহায্য পাব, সে বিষয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই। আপাতত আপনার এই অসাধারণ গবেষণাকর্ম সম্পূর্ণ করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক হেলমুথ ফন গ্লাসেনাপ (Prof. Helmuth von Glasenapp) লেখেন, “এত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার জন্য আপনার বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিনন্দন জানাতে আমাকে অনুমতি দিন।”

ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের ব্যুরো অব আমেরিকান এথনোলজির ড. ট্রুম্যান মাইকেলসন লেখেন, "এটি সত্যিই একটি অসাধারণ গ্রন্থ। লেখক তাঁর পরিণত পাণ্ডিত্যের জন্য অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, ড. চট্টোপাধ্যায় তাঁর গবেষণাকর্ম চালিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পাবেন এবং ইন্দো-আর্য ভাষাতত্ত্বের (Indo-Aryan Philology) ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, ভবিষ্যতে তার চেয়েও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।”

মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় ও ইরানি ভাষার অধ্যাপক উইলহেল্ম গাইগার (Prof. Wilhelm Geiger) লেখেন, “ড. চট্টোপাধ্যায়ের গ্রন্থটি অত্যন্ত উচ্চমানের পাণ্ডিত্যপূর্ণ রীতিতে রচিত। আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক ও ভাষাতাত্ত্বিক-ঐতিহাসিক গবেষণাপদ্ধতির (Linguistic and Philological Methods) উপর লেখকের সম্পূর্ণ দখল রয়েছে। ড. চট্টোপাধ্যায় ভাষার বহু তথ্য ও উপাদান অনুসন্ধান করেছেন এবং সেগুলির অত্যন্ত সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিপুল জ্ঞান—যা একমাত্র ভারতেই অর্জন করা সম্ভব—তার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ ও অসাধারণ পাণ্ডিত্যকে তিনি তাঁর গবেষণায় এমন সফলভাবে যুক্ত করেছেন যে, তার জন্য তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

প্যারিসের কলেজ দ্য ফ্রান্সের অধ্যাপক সিলভাঁ লেভি (Professor Sylvain Lévi) লেখেন,“সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের Origin and Development of the Bengali Language নিঃসন্দেহে একটি শ্রেষ্ঠ গবেষণাগ্রন্থ (Masterpiece)। এই ধরনের কোনও গ্রন্থের কথা আমার জানা নেই, যেখানে বিষয়টিকে এত সম্পূর্ণভাবে আয়ত্ত করা হয়েছে, এত গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয়েছে এবং এত স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলা ভাষার যে কোনও দিক নিয়ে যাঁরা আগ্রহী, এমনকি যাঁরা ভারতীয় ইতিহাস বা ভারতীয় জীবনযাত্রা নিয়ে গবেষণা করেন, তাঁরাও এই গ্রন্থে তাঁদের জ্ঞানের সমৃদ্ধির জন্য নতুন উপাদান পাবেন। একই সঙ্গে বইটি তাঁদের নতুন করে চিন্তা করতেও উদ্বুদ্ধ করবে।”

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মহাগ্রন্থ ‘অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’ (ODBL) প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে। শতবর্ষ অতিক্রম করেও এই বইটির উজ্জ্বলতা এবং গুরুত্ব এতটুকুও কমে নি। মাঝখানের এই সময়টায় ভাষাচর্চার পদ্ধতি ও দৃষ্টিকোণ বিশ্বজুড়ে অনেক বদলে গেছে। সুনীতিকুমারের এই বই লেখা হয়েছিল ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান বা হিস্টোরিক্যাল লিঙ্গুইস্টিকস এর পদ্ধতি অনুসরণ করে। এই বই নির্মাণের কাজ যখন চলছে সেই সময়েই ভাষাচর্চার জগতে এক বাঁক বদল হয়। ভাষাবিদ ফার্দিনান্দ দ্য স্যসুরের মৃত্যুর পর তাঁর ছাত্ররা স্যসুরের ক্লাসঘরের বক্তৃতামালার নোট সম্পাদনা করে “কোর্স ইন জেনারেল লিঙ্গুইস্টিকস” নামে বই আকারে প্রকাশ করে। এর মধ্যে দিয়ে ভাষাতত্ত্ব চর্চার জগতে উঠে আসে নতুন প্রস্থান – স্ট্রাকচারাল লিঙ্গুইস্টিকস বা গঠনমূলক ভাষাবিদ্যা। এরপর ১৯৫৭ সালে নোয়ম চমস্কীর নতুন গবেষণার সূত্র ধরে ভাষাতত্ত্ব চর্চায় আবার বাঁক বদল হয় এবং ট্রান্সফর্মেশনাল জেনারেটিভ গ্রামার বা রূপান্তরমূলক সৃষ্টিশীল ব্যাকরণ নামের নতুন ভাষাচর্চা পদ্ধতির বিকাশ ঘটে।

সুনীতিকুমার সম্পর্কে লিখতে গিয়ে অধ্যাপক শিশিরকুমার দাশ অনুযুগের সুরে বলেছিলেন যে ভাষাতত্ত্ব চর্চার এই আধুনিকতর প্রস্থানগুলি সম্পর্কে তিনি তেমন ঔৎসুক্য দেখান নি। ODBL এর পর ভাষাবিদ্যাচর্চার জগতে খুব বড় আর কোনও কাজও তিনি করে ওঠেন নি। এমনকী একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ পাবার যে আশা তাঁর কাছে ছিল, ‘ভাষা প্রকাশ বাংলা ব্যাকরণ’ সত্ত্বেও তা তাঁর কাছ থেকে পাওয়া যায় নি বলে অধ্যাপক দাশ মনে করেছেন। কেন ‘ভাষা প্রকাশ বাংলা ব্যাকরণ’ পূর্ণাঙ্গ আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ নয়, পূর্ণাঙ্গ আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে আর তা থেকে সুনীতিবাবুর ব্যাকরণের দূরত্ব আছে কীনা সেটি এক স্বতন্ত্র আলোচনার বিষয়। আমরা এখানে সেই আলোচনায় প্রবেশ করছি না।

ODBL প্রকাশের চার দশক পরে এই বই পৃথিবীর প্রধান প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র থেকে আবার নতুন করে প্রকাশিত হয়। ১৯৬১ সালে বেরোয় টোকিও থেকে ODBL এর একটি নতুন মুদ্রণ। ১৯৬৬ তে বেরোয় ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান সংস্করণ এবং ১৯৭০ সালে, বিলেতে এই বইয়ের এক নতুন সংস্করণ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত করেন জর্জ অ্যালেন অ্যান্ড আনউইন। এইসব সংস্করণ প্রকাশের পর বইটি নিয়ে নতুন করে আলাপ আলোচনা হয় পশ্চিমের ভাষাতত্ত্ব মহলে। বইটি প্রকাশের সাড়ে চার দশক পরে যখন তা আবার আলাপ আলোচনায় ফিরে আসছে তার কিছুদিন আগেই ভাষাতত্ত্ব চর্চায় নতুন বাঁকবদল হয়েছে চমস্কীর হাত ধরে এবং সর্বত্র তখন সেই চমস্কীয় ভাষাবিজ্ঞানের ধারতে নানাদিকে নানা ধরনের কাজ চলছে। ভাষাতত্ত্ব চর্চার বাঁকবদল সত্ত্বেও সুনীতিকুমারের ODBL নিয়ে এই নতুন চর্চা বুঝিয়ে দেয় নতুন পদ্ধতি প্রকরণ এলেও পুরনো ক্লাসিক কাজ তার নিজস্ব গুরুত্বে চিরায়তের মর্যাদা নিয়েই থাকে।

ODBL প্রকাশের পরেই দেশে বিদেশে বইটি নিয়ে যে ব্যাপক আলোচনা হয় তাতে সকলেই স্বীকার করে নেন বাংলা ভাষা সংক্রান্ত আলোচনায় এই বই এক যুগান্তকারী মাইল ফলক। এই বইকে অনুসরণ করে এরপর বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার ইতিহাস লেখার কাজ অন্যান্য গবেষকরা করেন। ODBL পরবর্তী ভাষাবিজ্ঞান চর্চার যে ইতিহাস আমাদের সামনে আছে তা থেকে বোঝা যায় যে শুধু বাংলা ভাষা নয়, সমস্ত ভারতীয় ভাষার চর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রেই সুনীতিকুমারের এই বই এর অসামান্য প্রভাব রয়েছে। ভাষাবিজ্ঞানের জগতে প্রকাশের শতবর্ষ পরেও সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ODBL এক জলবিভাজিকা ও মাইল ফলক হয় স্বমহিমায় উজ্জ্বল।